নোটিশ :
আমাদের ওয়েব সাইটে আপনাকে স্বাগতম... টিমি থিম, নিউজ পেপার থিম, ই-কমার্স থিম, কর্পোরেট থিম, স্কুল কলেজের থিমস কিনতে ভিজিট করুন www.themeneed.com  Themeneed.Com, Office :41/ Compact Bayazid square, Bayazid Bostami Rd, Nasirabad, Chaittagong, Mobile : 01310095939, 01859124823 Email : support@themeneed.com
সংবাদ শিরোনাম:
এনসিটি ও সিসিটি ইজারার প্রক্রিয়া বন্ধের দাবি/ চট্টগ্রামে প্রতীকী গণঅনশন বন্দর রক্ষা কমিটি প্রকৃতির রুদ্ররোষে মানুষ/পাহাড়ে পাহাড় ধসের ডাবল সেঞ্চুরি চট্টগ্রামে প্রাণিসম্পদ ও কৃষিমন্ত্রী আমিন/ ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক ও খামারিদের বীজ, ভ্যাকসিন নিয়ে পাশে দাঁড়াচ্ছে সরকার এনবিআরের সার্ভারে ঢুকে বন্দর থেকে মদ ও সিগারেটের চালান খালাসের চেষ্টা, মুল হোতা গ্রেপ্তার চট্টগ্রামে অন্ডকোষে আঘাত করে দারোয়ান খুন/ মামলার চার ঘন্টার মধ্যে সাত আসামি গ্রেপ্তার চট্টগ্রামে স্মৃতিস্তম্ভের উদ্বোধন/ছেলে বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়ে শহীদ হলো, অথচ দেশে বৈষম্য বাড়ছে- ওয়াসিমের বাবা চট্টগ্রামে ডিডিএন অফিস সন্ত্রাসী হামলায় অজ্ঞাত ৪০ জনের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার নেই চ্যানেল আই সেরাকণ্ঠ মৌমিতাকে নিয়ে কুরুচিকর তথ্য প্রচার/ চট্টগ্রাম সাইবার আদালতে ১৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা আগে যা ছিল ডোবা-পুকুর, এখন সেখানে চসিকের সিটি বাস টার্মিনাল চট্টগ্রামে ঝোপ থেকে পরিত্যাক্ত বিদেশী পিস্তল উদ্ধার
প্রকৃতির রুদ্ররোষে মানুষ/পাহাড়ে পাহাড় ধসের ডাবল সেঞ্চুরি

প্রকৃতির রুদ্ররোষে মানুষ/পাহাড়ে পাহাড় ধসের ডাবল সেঞ্চুরি

শিশির মাহমুদ
চট্টগ্রাম নগরের চশমা হিল আবাসিকের শেষ প্রান্তে ‘আমিন আহমদ চৌধুরীর’ মালিকানাধীন পাহাড়টি প্রায় ৬০ ফুট সোজা খাড়াভাবে কাটা হয়। ঢাল না রেখে অপরিকল্পিতভাবে কাটা পাহাড়ের নিচে আবদুল জব্বার কলোনি তৈরি করা হয়। ভারী বৃষ্টিতে কলোনির একটি টিনের ঘরের উপর ধসে পড়ে পাহাড়ের একাংশ। ৮ জুলাই মাটি চাপায় প্রাণ হারান পঞ্চম শ্রেনীর শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার। এর আগে কখনো এখানে পাহাড় ধস হয়নি। পাহাড় কাটার তথ্যও ছিল না পরিবেশ অধিদপ্তরের কাছে। পাহাড়ের প্রাকৃতিক প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে কেটে ক্ষতবিক্ষত করে ধ্বংসের খেসারত মাটি চাপা পড়ে জীবন দিয়ে শোধ করতে হয়েছে ছোট্ট শিশুকে। মানুষ সবুজ পাহাড়কে যতই বিরক্ত করছে, প্রকৃতি ততই রুদ্ররুপ হয়ে উঠছে।
একই দিন(৮ জুলাই) সীতাকুন্ডের জঙ্গল সলিমপুরের বাগানবাড়ি এলাকার খাস পাহাড় ধসে আশরাফুল ইসলাম তানভীর নামের ছয় মাসের শিশুর মৃত্যু হয়। ইচ্ছামতো পাহাড় কেটে বসতি তৈরি করেছিলেন মঈন উদ্দিন। ৩০-৪০ ফুট উচ্চতার পাহাড়টির ঢাল কেটে তাতেই ঘর তৈরি করে বসবাস করছিলেন তারা। এ পাহাড়ের দুই দিকে টাকা হলেও আগে পাহাড় ধস হয়নি। পরিবেশের কাছে পাহাড় কাটার তথ্য ছিল না, আগাম ব্যবস্থাও নেওয়া হয়নি। চট্টগ্রামের মতো রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার লাইল্যাঘোনায় প্রায় একশ’ ফুট উচু পাহাড় ধসে লক্ষী বিলাস চাকমা(৪০) প্রাণ হারান। ৭ জুলাই তার নিজ মালিকানাধীন পাহাড়ের নিচে পাহাড় কেটে তৈরি করা গোয়াল ঘরে গরুকে ঘাস খাওয়ানোরত অবস্থায় ধসে পড়ে পাহাড়টির একাংশ। পাহাড়টির প্রাকৃতিক ঢাল ধ্বংস করে ঘরটি তৈরি করেছিলেন তিনি। আর সেখানেই মাটি চাপায় মৃত্যু হয় তার। বান্দরবানের লামার মিশনপাড়ায় দুই পরিবারের পাঁচজন পাহাড় ধসে মারা গেছেন। তারা দুটি সরকারি খাস পাহাড় কেটে তার নিচে বসতি করেছিলেন। প্রশাসনের কাছে পাহাড় কাটার তথ্য ছিল না, অবৈধভাবে পাহাড় কাটায় পদক্ষেপ নেয়নি প্রশাসন। যদিও পাহাড় কাটায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেন আমিন আহমদ চৌধুরী। মঈন উদ্দিন বলেন, আমি অন্য জন থেকে স্ট্যাম্পমূলে পাহাড়টি কিনেছি। পরে পাহাড়ের একটি অংশ কেটে ঘর করে পরিবার নিয়ে বসবাস করে আসছিলাম। এভাবে ধসে পড়ে সন্তান মারা যাবে ভাবিনি।


বর্ষা সামলেই বৃহত্তর চট্টগ্রামে সবুজ পাহাড়কে অস্থির করায় প্রকৃতির রুদ্ররোষের শিকার হচ্ছে মানুষ। বাড়ছে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও। বিশেষ করে পাহাড়ের প্রাকৃতিক প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে নষ্ট করে ফেলায় বদলে গেছে পাহাড়ের আদি চরিত্রও। চট্টগ্রাম অঞ্চলের পাহাড়ী চার জেলায় মূলত চার কারণে মাত্রাতিরিক্ত পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটছে এখন। প্রকৃতি এতোটাই বিরুপ আচরণ করছে যে, গত ৫ থেকে ১১ জুলাই পর্যন্ত এক সপ্তাহের বৃষ্টিতে পাহাড়ে পাহাড় ধসের ডাবল সেঞ্চুরির ঘটনা ঘটেছে। রাঙ্গামাটিতে ১৩৫ বার ধস, মারা গেছে দুই জন। বান্দরবানে ২৩ বার ধসে ৫ জন, চট্টগ্রামে ৩৪ বার ধসে দুই জন মারা গেছে। মূলত দুই ধরণের স্থানে- পাহাড়ী আকাঁবাকাঁ সড়কে এবং ইচ্ছামতো পাহাড় কেটে বসতি তৈরি করা স্থানেই সবচেয়ে বেশি পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটছে। পাহাড়ের ঢালে স্লোপ না রেখে সরু খাড়া ভাবে পাহাড় কাটায় ভারী বর্ষণ হলেই ধসে পড়ছে মাটির স্তুপ। মারা যাচ্ছে মানুষ।
পরিবেশ গবেষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও চট্টগ্রামের পাহাড়গুলোর ভূতাত্ত্বিক মাটির গঠন মূলত বালু, পলি ও নরম কাঁদার মিশ্রণে গঠিত। এই মাটির পানি ধারণক্ষমতা, মাটিকে ধরে রাখার নিজস্ব শক্তি সমতলের চেয়ে অনেক কম। টানা অতিবৃষ্টি হলেই দুর্বল পাহাড়ি মাটি অতিরিক্ত পানি শোষণ করে ভারী হয়ে পড়ে। ফলে মাটির অভ্যন্তরীণ বাঁধন আলগা হয়ে পুরো ঢাল একসঙ্গে ধসে নিচে নেমে আসে। তার সঙ্গে জুম চাষের রূপান্তর ও বন উজাড় পাহাড় ধস মাত্মাতিরিক্ত হারে বেড়ে গেছে। কারণ ঐতিহ্যগতভাবে জুম চাষের আদি ধরণ পরিবর্তন হওয়া এবং বনের গাছপালা কেটে ফেলার ফলে মাটিকে আঁকড়ে ধরে রাখার মতো কোনো শিকড়ের জাল অবশিষ্ট নেই। ফলে বৃষ্টির পানি সরাসরি মাটিকে ধুয়ে নিচে নেমে যায়। ভূতাত্ত্বিক জরিপ ছাড়া সরকারি-বেসরকারিভাবে উন্নয়ন কাজ করতে গিয়ে পাহাড় কেটে সড়ক যোগাযোগের জাল সৃষ্টি, অপরিকল্পিতভাবে বাড়িঘর ও স্থাপনা তৈরি করে পাহাড়ের স্বাভাবিক চরিত্রও বদলে ফেলা হয়েছে। পাহাড়ের ঢালের প্রাকৃতিক বিন্যাস না বুঝে কাটা ও খোঁড়াখুঁড়ি করায় পাহাড়গুলোর গোড়া দুর্বল হয়ে পড়েছে।সেই ঝুঁকিপূর্ণ ঢালে বসতি তৈরি করায় রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রামে পাহাড় ধসে প্রাণহানি বাড়ছে।
পাহাড়ধস, পাহাড়ধস ব্যবস্থাপনা, পূর্বাভাস এবং ঝুঁকি নিয়ে দীর্ঘদিন গবেষণা করছেন চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ইকবাল সারওয়ার। তিনি বলেন, পার্বত্যাঞ্চলের পাহাড়গুলোতে এখন আদী বৃক্ষ নেই। তাই ন্যাড়া পাহাড়ের মাটি আকড়ে ধরে রাখার পুরনো শিকড়ের জালও নেই। পাহাড়ী মাটি বালু, পলি ও নরম কাঁদার মিশ্রিত হওয়ায় আগের মতো গাছের শিকড়ের সঙ্গে শক্তভাবে মাটি আকড়ে থাকছে না। তাই ভারী বৃষ্টি হলেই পাহাড়ের ঢালে মাটি নেমে যাচ্ছে। এছাড়া পাহাড়ের ভূতাত্ত্বিক বিন্যাসকে ক্ষতবিক্ষত করে পাহাড় কেটে স্থাপনা তৈরি করায় প্রচুর পাহাড় ধস ও প্রাণহানি হচ্ছে। এ থেকে বাঁচতে হলে সবুজ পাহাড়কে বিরক্ত করা বন্ধ করতে হবে।
আদি জ্ঞান বাদ দিয়ে আধুনিক নতুন নতুন টেকনোলজির ব্যবহার করে ঝুমচাষও বন্ধ করতে হবে বলে জানান ড. ইকবাল সারওয়ার।
পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মহানগরের সহকারি পরিচালক মুক্তাদির হাসান বলেন, চট্টগ্রামে দূর্ঘটনার শিকার দুটি পাহাড় ধসের স্থান পরিদর্শন করেছি। কারা পাহাড় কাটায় জড়িত অনুসন্ধান চলছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পাহাড় কাটার অভিযোগ পেলেই আমরা ব্যবস্থা নেই। এ দুটি জায়গার কোন অভিযোগ আগে পাইনি। তাই আগাম ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি।
পরিবেশ অধিদপ্তর রাঙ্গামাটি জেলা কার্যালয়ের সহকারি পরিচালক মোঃ মুমিনুল ইসলাম বলেন, রাঙ্গামাটির পাহাড়গুলো নরম বেলে মাটির পাহাড়, ভারতের পাথরে মাটির মতো নয়। বেলে মাটির পাহাড় হওয়ায় ভারী বৃষ্টিতেই পাহাড় ধস সৃষ্টি হচ্ছে। রাঙ্গামাটিতে সড়ক তৈরি করার সময় অধিকাংশ পাহাড়ে স্লোপ না রেখে পাহাড় কাটা হয়েছে। বসতি তৈরি করতে গিয়েও পাহাড়ের প্রাকৃতিক বিন্যাস না মেনে পাহাড় কেটে ঘরবাড়ি তৈরি না করায় সেখানেও ধস হচ্ছে। আমরা অবৈধভাবে পাহাড় কাটার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি।
ত্রাণ ও পুনর্বাসনের দায়িত্বে থাকা খাগড়াছড়ি জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(সার্বিক) হাসান মারুফ বলেন, পার্বত্যাঞ্চলে অপরিকল্পিতভাবে পাহাড় কেটে বসতি করা। ঝুমচাষ করতে গিয়ে পাহাড় গাছ শুন্য করে ফেলায় বৃষ্টি হলে গাছের শিখক না থাকায় সহজেই ধসে পড়ছে পাহাড়।
রাঙ্গামাটি জেলা ত্রাণ ও পুর্নবাসন কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, জেলায় ১৩৫টি পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটলেও মারা গেছে দুই জন। আগে এতো পাহাড় ধস হতো না। এখন অতিরিক্ত ধসের ঘটনা ঘটছে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে ভাগ করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি
Desing & Developed BY ThemeNeed.com